skip to Main Content

এডিটরস কলাম I পোশাকেই মুছে যাক অবসাদ

পোশাক আমরা সচেতনভাবে পরিধান করি বটে, কিন্তু এটি অবচেতনেও ছাপ তৈরি করে। সাধারণত প্রাত্যহিক জীবনে পোশাকের যে চক্রে আমরা আবর্তিত হই, তাতে মানসিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার স্ফুরণ ঘটে

এখন আমরা বাড়িতেই থাকছি। পরের দিনের জন্য কোনো তাড়া নেই। এতে আমাদের খাদ্যাভ্যাস, ঘুম, গোসল—সবই অন্য রকম হয়ে গেছে। পোশাকও। জীবনধারার এই আবশ্যিক উপকরণটিতে কী বদল ঘটে গেছে, আমরা হয়তো খেয়াল করতে পারছি না। এতে গৃহবন্দি এই সময়টি আরও সীমাবদ্ধ আর একঘেয়ে হয়ে পড়েছে। কীভাবে? প্রতিদিনই আমরা বিশেষ বিশেষ সময়ের প্রয়োজন মেনে পোশাক বদলাই, অর্থাৎ উপযুক্তটি পরে নিই। সকালে ঘুম থেকে উঠে কর্মস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ফরমাল আউটফিট পরি। বাড়িতে ফিরে সেটি বদলে ঘরোয়া বা হোম ক্যাজুয়াল ড্রেসটি গায়ে জড়িয়ে নিই। ঘুমানোর আগে অপেক্ষাকৃত আরামদায়ক ও নিদ্রাবান্ধব পোশাকটি পরি। এটা হলো স্বাভাবিক জীবনের পোশাকচক্র কিন্তু নিউ নরমাল আমাদের এই শৃঙ্খলা থেকে বাইরে নিয়ে এসেছে। শুরুতে এটা অনেকের কাছে রোমাঞ্চকর মনে হলেও একসময় কিংবা আজকাল একঘেয়েমির কারণ হয়ে উঠেছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পোশাক গোসলের পর পরা হচ্ছে, রাত্রি জাগরণের ফলে সেটি আর পাল্টানোই হচ্ছে না। ওই অবস্থাতেই পরের দিন বেলা করে ঘুম থেকে ওঠা।
দুই
মনের ওপর এটাও ফেলছে প্রভাব। পোশাক আমরা সচেতনভাবে পরি বটে, কিন্তু এটি অবচেতনেও ছাপ তৈরি করে। সাধারণত প্রাত্যহিক জীবনে পোশাকের যে চক্রে আমরা আবর্তিত হই, তাতে মানসিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার স্ফুরণ ঘটে। অফিসে যাওয়ার আগে নতুন পরা একটি ড্রেস আমাদের মনকে প্রস্তুত করে দেয় দিনভর পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য। তেমনি ঘুমানোর আগের পোশাকটি মনে সেই ইচ্ছার আবেশ তৈরি করে। অন্যদিকে কোনো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য যে বিশেষ ড্রেসটি পরি, তাতে চিত্ত এক প্রীতিকর অভিজ্ঞতার অপেক্ষায় আন্দোলিত হয়ে ওঠে। এভাবেই পোশাক আমাদের স্বাভাবিক জীবনের মধ্যে বৈচিত্র্য সৃষ্টি করতে থাকে। যদিও এটি চট করে আমাদের অনুভবের সীমানায় প্রবেশ করে না। কোভিডের বাস্তবতা বিষয়টি নিয়ে ভাবতে শিখিয়েছে।
তিন
এটা তো ঠিক যে নিরবচ্ছিন্ন একঘেয়েমি জীবনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। মনের ওপর তো বটেই। ডিপ্রেশন বা অবসাদের দিকে আমাদের টেনে নিয়ে যায়। একে সামলে ওঠার জন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জীবনকে উপভোগ করার পরামর্শ দেন। আনন্দে থাকার কথা বলেন। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে মনোদৈহিক সুস্থতার জন্য নিজেকে যতটা সম্ভব সুন্দর ও সুস্থির রাখা জরুরি। আমার কথা হচ্ছে, অন্য কিছুর সঙ্গে সময়মতো সঠিক আউটফিট এবং এর বৈচিত্র্যও সুস্থ আর সুন্দর থাকার জন্য বিশেষভাবে সহায়ক। অধিকন্তু জীবনের স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে এটি সাহায্য করে। পোশাক তো শুধু লজ্জা নিবারণের উপকরণ নয়, এমনকি কেবল নিজেকে সাজানোর উপায়ও নয়; এটি আমাদের চিনিয়ে দেয় ব্যক্তি হিসেবে, বুঝিয়ে দেয় কেমন আছি। আমি তো বলি, পোশাক হলো সময়। কারও আউটফিট দেখেই বোঝা যায়, সে কোন সময়ে আছে এবং দিনের কোন অংশে তার অবস্থান। তাই দিনের পোশাক পরা অবস্থায় রাতে কাউকে দেখলে সচেতন ব্যক্তিমাত্রই বুঝে ফেলবেন, লোকটির জীবন স্বাভাবিক নয়, কিংবা সময়ের বাইরে সে অবস্থান করছে। পোশাক তাই জীবনের স্বাভাবিক গতিশীলতাকেও নির্দেশ করে।
চার
এতক্ষণের আলোচনায় কী বোঝা গেল? সময়মতো সঠিক পোশাকটি পরতে হবে। যাতে দিনের প্রতিটি অংশকে নিজের মনের সঙ্গে জড়িয়ে রাখতে পারেন। আজকাল কোনো কোনো দিন বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশজুড়ে মেঘের ঘনঘটা দেখা যাচ্ছে। জানালা দিয়ে ঠান্ডা বাতাস আসছে। এমন সময়কে উপভোগ করার জন্য জুতসই একটি ড্রেস ওয়্যারড্রোব থেকে বেছে নিন। বৃষ্টির গান শুনতে শুনতে সেই পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে একটু না হয় সেজেই নিন। আয়নায় নিজের দিকে তাকাতে তাকাতে মন কি বদলে গেল না? অজানা এক সুখে হৃদয় নিশ্চয়ই ভরে উঠছে। ভাবুন তো, একটু আগেই কেমন ছিলেন!

ইলাস্ট্রেশন: দিদারুল দিপু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back To Top